সেসময় তার ধারণাগুলি জানিয়ে ‘দ্যা ডেইলি স্টার’ পত্রিকায় নাগরিকদের উদ্দেশ্যে মোট তিনটি খোলা চিঠি লিখে মতামত চেয়েছিলেন। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীর অভাবে তিনি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তার এই
উদ্যোগ বাতিল করে দিয়েছিলেন।
মূলত ২০০৬, ০৭ ও ০৮ সালে চলমান অস্থিতিশীল বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের অংশ হিসবে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে সেনা-হস্তক্ষেপের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাসহ বেশিরভাগ শীর্ষ রাজনীতিবিদ দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দী হয়েছেন।
২০০৬ সালের প্রথম দিকে ইউনূস, অধ্যাপক রেহমান সোবহান, সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, আইনবিদ কামাল হোসেন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম এবং অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সহ সুশীল সমাজের অন্যান্য সদস্যদের সাথে একটি প্রচারণায় অংশ নেন। জাতীয় নির্বাচনে সৎ ও পরিচ্ছন্ন প্রার্থীদের জন্য সে বছরের শেষের দিকে রাজনীতিতে প্রবেশের কথা ভেবেছিলেন।
‘দ্যা ডেইলি স্টার’ পত্রিকায় প্রকাশ হওয়া প্রথম খোলা চিঠিতে
তিনি লিখেছেন-
তিনি রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সঠিক নেতৃত্ব এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনার বিষয়ে নাগরিকদের মতামত জানতে চান। চিঠিতে তিনি সবাইকে সংক্ষেপে এই কাজটি কীভাবে করা উচিত এবং কীভাবে তারা এতে অবদান রাখতে পারেন তার রূপরেখা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
অতপর মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ‘নাগরিক শক্তি’ নামে একটি নতুন দল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন।
দ্বিতীয় চিঠিতে তিনি লিখেন-
রাজনীতিতে তার যোগদানের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে দলের ভিত্তি ও মূলনীতি, দলের তৃণমূল পর্যায়ের জন্য একটি বিস্তারিত সাংগঠনিক কাঠামো উপস্থাপনের পাশাপাশি নারী, তরুণ ও প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে সম্বোধন করা হয়।
এই চিঠিতে আন্দোলনের মূল প্রতিপাদ্য
হিসাবে "বাংলাদেশ এগিয়ে চলো" এই স্লোগান ঘোষণা করা হয়।
দলটির অন্যতম লক্ষ্য ছিল ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারীর ক্ষমতায়ন এবং দারিদ্র্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ফলাফল অর্জন করা।
চিঠিতে দলটি সৎ প্রশাসন এবং জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যোগ্য নেতাদের নিয়োগের চেষ্টার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
ড. ইউনূস বাংলাদেশর সমুদ্রবন্দরগুলো উন্মুক্ত করে দিয়ে বৈশ্বিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি অর্থনৈতিক চেক-পয়েন্টে পরিণত করতে চেয়েছিলেন।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নাগরিক শক্তি নামের এইদল ৩০০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা করেছিলেন।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোড়ন তুলে
নাগরিক শক্তি নামের দলটি। প্রথম দিকে অনেক রাজনৈতিক নেতা মুখে কুলুপ এঁটে থাকলেও কেউ কেউ দল নিয়ে তিক্ততা প্রকাশ করেছেন।
এরপর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইউনূসের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন রাজনীতিতে নবাগত ব্যক্তিরা বিপজ্জনক এবং তাদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়, তারা অনেক সময় ভালোর চেয়ে জাতির ক্ষতি বেশি করে।
ততকালীন
ইসলামী ঐক্যজোটের নেতা ফজলুল হক আমিনী মুহাম্মদ
ইউনূস সম্পর্কে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, "ড. ইউনূস দেশ, জাতি ও ইসলামের শত্রু।"
অতপর ২০০৭ সালের মে মাসের ৩ তারিখ তৃতীয় চিঠিতে বলেন-
ড. ইউনূস তৎকালীন তত্ত্ববধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদের সাথে বৈঠকের পর তিনি তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
বলে ঘোষণা করেন।
প্রিয় দরশক আজ এই পর্ন্তই । ভিডিওটি ভাল লাগলে একটা লাইক ও সাবস্ক্রাইব
আশা করব। আবার দেখা হবে অন্য কোন ভিডিওতে। সবাই ভালো থাকবেন।
আসসালামু আলাইকুম।

No comments:
Post a Comment