দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ ও মিয়ানমার এর সামরিক শক্তি নানা দিক থেকে একে অপরের সঙ্গে তুলনা করা বেশ জটিল। তবে দুটো দেশই সময়ের সাথে সাথে সামরিক সক্ষমতা বেশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ, শক্তিশালী কৌশল ও সুনির্দিষ্ট
পরিকল্পনার মাধ্যমে সর্বাত্বক প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। বাংলাদেশ একদিকে সীমান্ত
রক্ষায় ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্রিয়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ২০১৯ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায় বাংলাদেশ সামরিক বাজেটে প্রায়
৫,০০০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে, যা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীকে
আধুনিকীকরণে সহায়তা করছে।
অন্যদিকে,
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীও দীর্ঘ সময় ধরে নিজস্ব সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ
সমস্যা মোকাবেলা করছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী একটি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে চলেছে,
তবে দেশটির সামরিক খাতের বাজেট তুলনামূলকভাবে কম। তাদের হাতে কিছু আধুনিক অস্ত্র ও
সরঞ্জাম থাকলেও, আন্তর্জাতিকভাবে তারা অনেক সমালোচনার শিকার, বিশেষ করে মানবাধিকার
লঙ্ঘনের কারণে।
বাংলাদেশ
ও মিয়ানমারের মধ্যে সামরিক সম্পর্কেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। সীমান্ত
এলাকায় কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যেমন রোহিঙ্গা সংকট, এই দুই দেশের সামরিক বাহিনীকে
একে অপরের সঙ্গে মুখোমুখি দাঁড় করায়। তবে বাংলাদেশ সরকারের নীতি হল শান্তিপূর্ণ
সমাধান এবং বিরোধ নিষ্পত্তির দিকে এগিয়ে যাওয়া।
বাংলাদেশ
নৌবাহিনীও তার দক্ষতা ও শক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে বহু পদক্ষেপ নিয়েছে, বিশেষ করে
বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মেরিটাইম আইন অনুসরণে। বাংলাদেশ গত কয়েক
বছরে তার নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন করেছে এবং বিদেশি জাহাজ, সাবমেরিন ও সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের নৌবাহিনী তুলনামূলকভাবে ছোট, তবে এই বাহিনীর সঙ্গে রয়েছে
কিছু উন্নত জলযান ও সাবমেরিনের সুবিধা। তাদের অগ্রাধিকারে রয়েছে দেশের উপকূলরক্ষায়
দৃষ্টি নিবদ্ধ করা।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীও তার শক্তি বৃদ্ধি করেছে, নতুন নতুন যুদ্ধবিমান এবং আধুনিক
প্রশিক্ষণ সিস্টেমের মাধ্যমে। বিমান বাহিনীর শক্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বহু
আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং চুক্তি করেছে।
অন্যদিকে, মিয়ানমারের বিমান বাহিনী যদিও তুলনামূলকভাবে কম শক্তিশালী, তবে তারা
চীন, রাশিয়া থেকে কিছু আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার সংগ্রহ করেছে। তাদের লক্ষ্য
সীমান্ত এলাকায় দমন-পীড়ন ও শত্রু শক্তি প্রতিহত করা।
অতএব, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে অবদান, আর
মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সীমান্ত রক্ষায় শক্তিশালী
অবস্থান—এই দুই দেশের সামরিক শক্তির মধ্যে রয়েছে বৈচিত্র্যময়তা। তবে, উভয় দেশের
মাঝে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার
গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রিয় দর্শক, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সামরিক শক্তির তুলনা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন আজ
এই পযর্ন্তই। এমন আরও বিশ্লেষণমূলক ভিডিও পেতে চোখ রাখুন মায়াগল্প চ্যানেলে। ভিজিট
করুন মায়াগল্প ডট কমে। ধন্যবাদ।
No comments:
Post a Comment