১৯৯৪ সালের ১৪ই আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের স্মৃতি বিজড়িত কিছু সামগ্রীর সংগ্রহ নিয়ে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রে ধানমন্ডি ৩২ এ অবস্থিত একটি বিশেষ জাদুঘর যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার অন্যতম নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণার্থে স্থাপিত হয়েছে।
২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থান পর পরবর্তী সহিংসতায় এই বাড়িটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্বাধীনতাপূর্ব কাল থেকেই
ঢাকার ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকায় ৩২ নম্বর রোডের বাড়িতে শেখ মুজিব বসবাস করতেন।
১৯৫৬ সালে মন্ত্রী থাকাকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের
একান্ত সচিব নূরুজ্জামান ধানমন্ডি এলাকার জমির জন্য গণপূর্ত বিভাগে আবেদনপত্র জমা দেন।
১৯৫৭ সালে ধানমন্ডিতে ছয় হাজার টাকায় এক বিঘা জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে প্রথমে এখানে দুই কক্ষবিশিষ্ট একতলা ও পরে দোতলা বাড়ী
নির্মান করা হয়।
১৯৬১ সালের ১ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্ব-পরিবারে এই বাড়িতে থাকা
শুরু করেন।
শেখ মুজিবুর রহমান এই বাড়ি থেকেই ১৯৬৬ সালের ছয়
দফা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০
সালের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্-কালীন সময়ে জনতার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য ও জরুরি সিদ্ধান্ত দিতেন।
তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন এই ভবনেই ১৯৭৫ সালের
১৫ই আগস্ট সামরিক বাহিনীর একটি সশস্ত্রদলের আক্রমণে নিহত হন। পরে বাড়িটি লুট করা হয়। অতপর
জিয়া সরকারের আমলে বাড়িটি সিলগালা করে দেওয়া হয়।
১৯৮১ সালে বাড়িটি শেখ
হাসিনার নিকট হস্তান্তর করা হলে বঙ্গবন্ধুর দুই উত্তরাধিকারী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ১৯৯৪ সালের ১১ই এপ্রিল বঙ্গবন্ধু
মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করে বাড়িটিকে ট্রাস্টের হাতে অর্পণ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর ২৬ মার্চ
রাত ১টা ৩০ মিনিটে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী শেখ মুজিবকে গ্রেফতার করেন।
তখন থেকে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করার আগ পর্যন্ত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বাড়িটি দখল করে রাখে
এবং পাকিস্তানী বাহিনীর গুলির আঘাতে ভবনটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্রদের অসহযোগ
আন্দোলন চলাকালীন ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর
পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার পর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ জাদুঘরটিতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালায়।
২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের ফেসবুক পেইজে জানানো হয় শেখ হাসিনা ছাত্রদের উদ্দেশ্যে রাত ৯ টায় ভাষণ দেবে। এই খবর শুনে সন্ধ্যায় সমন্বয়ক হাসনাত
আবদুল্লাহ নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্টের পোস্টে লিখেন ৫তারিখ রাতেই বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের তীর্থভূমি মুক্তি হবে।
একই দিনে পিনাকী
ভট্টাচার্যও ফেসবুকে ভিডিও বার্তায় ধানমণ্ডি ৩২ ভেঙে ফেলার জন্য মানুষকে আহ্বান করেন। ফেসবুকে অনেকে বুলডোজার মিছিল শিরোনামে পোস্ট করেন। রাত ৮ টার পরপরই ভবনটিতে ভাঙচুর চালানো হয়। ফ্যাসিবাদ এর কবর রচনার জন্য ছাত্র জনতা ফ্যাসিবাদ এর মূল হোতার বাড়ি গুড়িয়ে দিতে চায়
বলে জানায়।
প্রিয় দরশক আজ এই পর্ন্তই । ভিডিওটি ভাল লাগলে একটা লাইক ও সাবস্ক্রাইব
আশা করব। আবার দেখা হবে অন্য কোন ভিডিওতে। সবাই ভালো থাকবেন।
আসসালামু আলাইকুম।
No comments:
Post a Comment